গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ আসনের এমপি আওয়ামী লীগ নেতা মনজুরুল ইসলাম লিটন খুনের মামলায় ৯ দিনের মাথায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আটক থাকা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আহসান হাবিব মাসুদকে গ্রেফতার দেখিয়ে রোববার জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এছাড়া শনিবার এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো ৬ জনের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। নৃশংস এই হত্যাকান্ডটির সুনির্দিষ্ট কোনো মোটিভ এখনো খোলাসা করেনি আইনশৃংখলাবাহিনী। তবে গ্রেফতার দেখানোয় মাসুদের পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করে বলা হয়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ।
স্বেচছাসেবকলীগ নেতা মাসুদকে গ্রেফতার দেখানো হলো : সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আতিয়ার রহমান জানান, রোববার সকালে উপজেলা সদরের নিজ বাড়ি থেকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আহসান হাবিব মাসুদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। তাকে
আইনশৃংখলাবাহিনী নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে এমপি লিটন হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রোববার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, মাসুদ আগে জাসদের রাজনীতি করতেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মাসুদ স্বেচ্ছাসেবক লীগে যোগদান করে। ওসি জানান, মাসুদের আওয়ামী লীগে যোগদান মেনে নেননি এমপি লিটন। এই কারণে এমপির সঙ্গে তার বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধ অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ্যেই দেখা দেয়। তাই এমপি হত্যার ঘটনায় কিলার মাসুদ সন্দেহের তালিকায় ছিল। এজন্য তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
তবে পরিবারের বরাত দিয়ে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, এমপি লিটন হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলা পুলিশ গত শুক্রবার মাসুদকে নিজ বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়েছিল। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য।
গত ৩১ ডিসেম্বর শনিবার মাগরিবের নামাজের কিছু পর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের এমপি আওয়ামী লীগ নেতা মনজুরুল ইসলাম লিটনকে মাস্টারপাড়াস্থ তার নিজ বাড়ির ড্রয়িং রুমে ৫ দুর্বৃত্ত পরপর ৫টি গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় তার ছোট বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী ৫ দুর্বৃত্তসহ অজ্ঞাতদের নামে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় গত ৮ দিন ধরে প্রায় ৬০ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। আট দিনের মাথায় শনিবার এই মামলায় সন্দিগ্ধ গ্রেফতার দেখিয়ে ৬ জন জামায়াত-শিবির কর্মী এবং ৯ দিনের মাথায় এক স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হলো।
এমপি লিটনের বাড়ির উঠানের গাবগাছের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া মাথার কালো ক্যাপ, ড্রয়িং রুম থেকে উদ্ধার হওয়া চারটি ফায়ার কার্তুজ ও দুটি গুলির ফায়ার্ড বুলেট ডিএনএ টেস্টের জন্য ঢাকার অপরাধ তদন্ত বিভাগের ল্যাবে পাঠিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
0 comments:
Post a Comment