জানা যায়, রবিবার (৮ই জানুয়ারি) খানাসামা ডিগ্রী কলেজকে জাতীয়করণ করার দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন কর্মসূচিতে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে অর্ধদিবস হরতাল কর্মসূচি শেষ করেন শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়রা। এসময় উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে থানা মোড়ের দিকে যাবার সময় বাধা দেয় পুলিশ। এসময় পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংষর্ঘ বাধে। মৃদু লাঠিচার্জ এবং কয়ের রাউন্ড টিয়ারসেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। এসময় আটক বিক্ষোভকারীদের ছেড়ে দেওয়ার দাবিতে থানা ঘেরাও করা হলে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন তারা। ২৫ থেকে ৩০ রাউন্ড টিয়ারসেল এবং সম পরিমান রাবার বুলেটসহ শর্টগানের গুলি বর্ষণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
এ ঘটনায় ৪ পুলিশসহ কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রায় ১৫জনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশী হামলার প্রতিবাদে টায়ারে আগুন দিয়ে সড়ক অবরোধসহ বিক্ষোভ করে আন্দোলনকারীরা।
এ রির্পোট লিখা পর্যন্ত অতিরিক্ত পুলিশসহ র্যাব মোতায়েন দৃশ্য লক্ষ করা যায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে।
এর আগে গত শনিবার (৭ই জানুয়ারী) রাতে পাঁচ অন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ছাত্রলীগের সদস্য রাকেশ কুমার গুহ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মোঃ আব্দুল লতিফ রানা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মোঃ রফিকুল ইসলাম, ছাত্রলীগের সোলজার ও বিএনপির কৃষক দলের উপজেলা সভাপতি আতাউর রহমান। এরা সবাই খানসামা ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য।
খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজেবুর রহমান জানান, বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৪ই ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী ৩য় দফায় দেশের ৯টি ডিগ্রি কলেজকে জাতীয়করণের ঘোষণা দেন। এতে খানসামা উপজেলার পাকেরহাট ডিগ্রি কলেজের নাম তালিকায় উঠে আসে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কলেজটি জাতীয়করণের দাবি জানিয়ে আসছিল এলাকাবাসী। হঠাৎ করে এই কলেজটির নাম বাদ দিয়ে পাকেরহাট ডিগ্রি কলেজকে জাতীয়করণের ঘোষণা দেওয়ায় এলাকাবাসী আন্দোলনে নামে।
কাঙ্খিত দাবি পূরণ না হওয়ায় ১৫ই ডিসেম্বর থেকে তারা আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে আসছিল। এর আগে তারা মানববন্ধন কর্মসূচি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। কর্মসূচি অনুযায়ী রবিবার আধাবেলা হরতাল ডাকে আন্দোলনকারীরা।
0 comments:
Post a Comment