‘নিয়ম ভেঙে’ রোগীকে বাঁচালেন চিকিৎসকরা


‘নিয়ম ভেঙে’ রোগীকে বাঁচালেন চিকিৎসকরা
ফাইল ছবি




ফ্যালোপিয়ন টিউব ফেটে রক্তক্ষরণ হচ্ছে রোগীর। রোগী নিজেও সংজ্ঞাহীন। হাসপাতালে ভর্তি করানোর পর থেকে খোঁজ নেই পরিবারের লোকের। অস্ত্রোপচারে সম্মতি দেওয়ারও কেউ নেই। তারপরেও রোগীকে বাঁচাতে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে নিজেদের দায়িত্বে অস্ত্রপচার করল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি বিরূপ হলে চাকরি নিয়ে টানাটানি তো বটেই, হতে পারত জেলহাজতও। সেই ভয়ের পরোয়া না করেই নিজেদের সর্বস্ব বাজি রেখে জীবন ফিরিয়ে দিলেন রোগীকে।

ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার শাসন এলাকার এক গৃবধূকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শনিবার বারাসত হাসপাতালে নিয়ে আসে তার পরিবার। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তৎক্ষণাৎ তাকে আইসিউতে ভর্তি করা হয়। তার পর থেকে আর খোঁজ পাওয়া যায়নি তার পরিবারের। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ওই গৃহবধূ রপচার্ড-এক্টোপিক প্রেগনেন্সিতে আক্রান্ত। জরায়ুর বদলে ফ্যালোপিয়ন টিউবে ভ্রুণের জন্ম হয় এবং তার কারণে ফেটে যায় টিউবটি।

সমীক্ষা অনুযায়ী একশো জন অন্তঃসত্ত্বার মধ্যে একজন এই সমস্যার শিকার হন। বারাসত হাসপাতালের সুপার সুব্রত মণ্ডল জানান, এই গৃহবধূকে যখন হাসপাতালে আনা হয় তখন তার অবস্থা অতি সঙ্কটজনক ছিল। টিউব ফেটে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল এবং তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছিলেন। একদিকে রোগীর অবস্থার ক্রমশ অবনতি হচ্ছিল। দ্রূত অস্ত্রপচার ছাড়া তাকে বাঁচানোর কোন উপায় ছিল না। অবশেষে রোগীকে বাঁচানোর জন্য ঝুঁকি নিয়েই পরিবারে সম্মতি ছাড়াই অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেয় হাসপাতাল। বারাসত হাসপাতালের সার্জেনদের একটি দল অস্ত্রোপচার করেন। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় রক্তক্ষরণ বন্ধ হয়।

তবে অধিক রক্তপাতের ফলে তখনও বিপদ কাটেনি। তাই নিজেদের উদ্যোগে রক্ত জোগাড় করে তাকে তিন বোতল রক্ত দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। টানা দু’দিন চিকিৎসার পর সোমবার আপাতত সুস্থ হন ওই গৃহবধূ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মানবিক ও অভাবনীয় পদক্ষেপে জীবন ফিরে পেলেন তিনি। এদিকে বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের চিকিৎসকদের আরও মানবিক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে বারাসত হাসপাতালের এই পদক্ষেপ যে মানবিক হওয়ার চেয়ে আরও বড় কিছু তা বলার কোন অপেক্ষা রাখে না বলে মত চিকিৎসক মহলের।


Share on Google Plus

About WARAJ

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment