ছেলেদের ত্বকে ব্রণ ও সানবার্ন হলে যা করণীয়




ছেলেদের ত্বকে ব্রণ ও সানবার্ন হলে যা করণীয়

বিডিলাইভ ডেস্ক: কাজের প্রয়োজনে ও নানা কারণে ছেলেদের বাসার বাইরে থাকতে হয় খুব বেশি। ফলে রোদ ও ধুলাবালির সংস্পর্শে অনেকের ত্বকে ব্রণ ও সানবার্নের সমস্যা দেখা দেয়। কারণ ছেলেরা মেয়েদের মতো ত্বকের যত্ন নেয় না। কিন্তু ছেলেদেরও ত্বকের যত্নে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। এমন অনেক ছেলেই আছেন যারা ত্বকে ব্রণ হলে কি করতে হবে তাই জানেন না। তাই আজ দেয়া হলো ছেলেদের ত্বকের যত্ন সম্পর্কে।

তৈলাক্ত ও ঘামে ভেজা ত্বকে ধুলাবালি লেগে লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়। এতে ব্রণের সমস্যা দেখা দেয়। ব্রণ থাকলে প্রতিদিন শেভ না করে একদিন পরপর শেভ করাই ভালো। শেভ করার পাঁচ মিনিট আগে ভালো ময়েশ্চারাইজার লাগাতে হবে। শেভের আগে রেজারটি অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে উষ্ণ গরম পানিতে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রেখে তারপর শেভ করুন।

শেভিংয়ের সময় রেজার নিচের দিকে টানুন। অনেকেরই শেভ করার পর ত্বকে র‌্যাশ দেখা দেয়। সে জন্য হালকা শেভিং ক্রিম, জেল বা ফোম ব্যবহার করুন। যাদের র‌্যাশ হতে থাকেই, তাদের আফটার শেভ লোশন এড়িয়ে চলা ভালো। শেভিংয়ের পরে অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম লাগানোটা জরুরি।

ব্রণ কমাতে যা করবেন :
ব্রণ সমস্যা কমাতে হারবাল ফেসিয়াল করাতে পারেন। বাসায়ও কোনো  ফেসপ্যাক বানিয়ে নিতে পারেন। ব্রণ এর ওপর দারুচিনি পেস্ট করে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। ব্রণে নখ লাগাবেন না এতে ত্বকে দাগ হয়। এছাড়া বাইরে থেকে ফিরে বেশি করে পানির ঝাপটা এবং ভালো মানের ফেসওয়াশ দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করে নিন।

সানবার্ন :
সূর্যের তাপে ত্বকে ছোপ ছোপ দাগ ও সানবার্ন হয়। ছেলেদের হাতে ও মুখে সানবার্ন বেশি দেখা যায়। তাই বাইরে যাওয়ার অন্তত ১৫ মিনিট আগে সানস্ক্রিন লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করুন। আমাদের দেশের আবহাওয়ায় সানস্ক্রিন লোশন বা ক্রিমের এসপিএফ ৪০ থেকে ৫০ হওয়া দরকার। সানস্ক্রিন লোশন লাগানোর ৪ ঘণ্টা পর ধুয়ে আবার লাগিয়ে নিন। ৪ ঘণ্টা পর সানস্ক্রিন লোশনের কার্যকারিতা কমে যায়।

সানস্ক্রিনের বিকল্প হিসেবে টক দই, গোলাপজল ও মুলতানি মাটি একত্রে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে ত্বকে লাগালে সানবার্ন থাকবে না। আটা, টমেটো ও কাঁচা হলুদের রস দিয়েও প্যাক বানিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। মুখ ধোয়ার ১৫ মিনিট পর গোলাপজল টোনার হিসেবে ব্যবহার করা যায়। মাসে অন্তত একবার ফেসিয়াল করুন।

ত্বকের ধরন বুঝে যত্ন :

- যাদের ত্বক বেশি তৈলাক্ত, তারা ঘুমের আগে ভালো মানের ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে স্ক্রিন টোনার লাগাতে পারেন। লেবু, শসা দিয়ে বানানো প্যাকও ব্যবহার করা যায়। এতে তৈলাক্ত ভাব কমবে, ত্বক সতেজ হবে। তবে দুধ বা দুধের সর তৈলাক্ত ত্বকে লাগানো ঠিক নয়। দুধের বদলে তিলের পেস্ট লাগাতে পারেন।

- শুষ্ক ত্বকে আবার তিলের পেস্ট ব্যবহার করা যাবে না। এতে ত্বক আরো শুষ্ক হয়ে যাবে। দুধ বা অলিভ অয়েল দিয়ে প্যাক বানিয়ে লাগান। ঘুমের আগে ব্যবহার করুন ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম।

- আর যাদের মিশ্র ত্বক, তারা মধু, পেঁপে দিয়ে একটি প্যাক বানিয়ে নিয়মিত ব্যবহার করুন।

ঘরে বসে যত্নের পাশাপাশি ত্বকের ধরন বুঝে পার্লার থেকে নিতে পারেন ডিপ ক্লিনজিং, ভিটামিন ‘সি’ ট্রিটমেন্ট, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, হার্বাল, স্পেশাল হার্বাল, অ্যালোভেরা, ডায়মন্ড ও ফ্লাওয়ার ফেসিয়াল।

দিনে আট থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করুন। খাদ্যতালিকায় ভিটামিনসমৃদ্ধ তাজা ফল ও বেশি করে সবুজ শাকসবজি রাখুন।



Share on Google Plus

About WARAJ

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment