সরকার থেকে পদত্যাগের সুযোগ খুঁজছে জাপা

দলের ইমেজ পুনরুদ্ধারে সরকার থেকে পদত্যাগের সুযোগ খুঁজছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টি (জাপা)। এ বিষয়ে প্রস্তুতিও নিয়েছে দলটি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেদের ‘পারফেক্ট’ প্রমাণেই এই সিদ্ধান্ত। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের গতকাল বলেন, জাতীয় পার্টি এখন নিজস্ব সত্তা সংকটে ভুগছে। তাই আমরা দলের সবাই ঐকমত্যে পৌঁছেছি- নির্বাচনে সাফল্য পেতে এখনই সরকার থেকে পদত্যাগ করতে হবে। এ সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া জানিয়ে তিনি বলেন, এখন তা বাস্তবায়নের বিষয়। দলের চেয়ারম্যান যত দ্রুত সম্ভব এটি করবেন বলে আমরা আশা করি।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারে তিনজন মন্ত্রী জাতীয় পার্টির। এরা হলেন পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। এর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত (মন্ত্রী পদমর্যাদার) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্বয়ং পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এমন সিদ্ধান্ত কিনা জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেন, এ সিদ্ধান্ত আমাদের দলের। এখানে সরকারের ভালো-খারাপ দেখার বিষয় নয়। কয়েক নেতার সুবিধার জন্য আমরা পুরো দল বেকায়দায় রাখতে চাই না। এমনিতেই আমরা বেকায়দায় আছি। জনগণের কাছে আমাদের গ্রহণযোগ্যতা আগের আস্থায় নেই। নানা প্রশ্নে কথা বলতেও পারি না। সরকারে থাকায় সাধারণ মানুষের সমালোচনার মুখে পড়ছি। দেশের মানুষের কাছে জাতীয় পার্টি ‘জোকার পার্টি’তে পরিণত হয়েছে।

তারা বলেন, আমরা তো সরকারের কথা ভাবছি না। আমরা ভাবছি বিরোধী দলের রোল প্লে বেগবান করার কথা। কারণ উল্লেখ করে তারা আরও বলেন, সামনে নির্বাচন। এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। নির্বাচনে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণে সরকার থেকে পদত্যাগের বিকল্প নেই। এই পদত্যাগ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে করে সুফল আসবে না। সিদ্ধান্ত এখই বাস্তবায়ন করতে হবে বলেও জানান তারা।

২০১৬ সালের শুরুর দিকে সরকার থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এরশাদ। এজন্য তিনি নিজের পদত্যাগপত্র চূড়ান্ত করে অন্যদের পদত্যাগে আলটিমেটামও দিয়েছিলেন। কিন্তু গণমাধ্যমে পদত্যাগের খবর প্রকাশিত হলে এরশাদ ‘অসুস্থ হয়ে’ সামরিক হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর এ যাত্রা থেকে ক্ষান্ত দেন তিনি। এখনই পদত্যাগ কেন এমন প্রশ্নে দলের কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি এককভাবে লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রস্তুতি নিতে গেলে ডুয়েল রোল প্লে বন্ধ করতে হবে। বিরোধী দলে থেকে সাধারণ মানুষের হয়ে কথা বলা যায়। সরকারের অংশ হিসেবে এটা সম্ভব না। তা ছাড়া দুই নৌকায় পা দিয়ে সামনে চলা সম্ভব নয়। আমাদের এই নীতিতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত। ভালবাসার জায়গা থেকে ছিটকে পড়তে হচ্ছে। আমাদের রাজনৈতিক অবস্থান জনগণের কাছে স্পষ্ট করতেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত। সুবিধাজনক সময় পেলেই তা ঘোষণা করা হবে। তবে বিষয়টি বাস্তবায়ন দলের চেয়ারম্যানের ওপর নির্ভর করছে।

জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রফেসর দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমরা প্রস্তুত। সময়ই বলে দেবে কবে পদত্যাগ করব।

জাতীয় পার্টির একটি সূত্র জানায়, সরকার থেকে পদত্যাগের বিষয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে দলে একাধিক বৈঠক হয়েছে। বৈঠকগুলোতে সরকার থেকে পদত্যাগের বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন। তা ছাড়া পদত্যাগ বিষয়ে অনেক আগেই সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন এরশাদ। তাই দলীয় ফোরামের অভিন্ন মতে এরশাদের সম্মতি আছে। তবে সরকারের ভাবমূর্তি বুঝে যে কোনো সময় তা বাস্তবায়ন হতে পারে।

জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের আস্থাভাজন একাধিক প্রেসিডিয়াম সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতবার বিরোধী দলীয় নেতা (রওশন এরশাদ) ভেটো দেওয়ায় সরকার থেকে পদত্যাগ করতে পারেনি জাতীয় পার্টি। সামনে নির্বাচন। নির্বাচনে দলের একক নির্বাচনী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কাজ করছেন রওশনও। তা ছাড়া এরশাদ-রওশন দম্পতি এখন ঐক্যবদ্ধ। তাই এরশাদের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিরোধীদলীয় নেতাও দ্বিমত করবেন না।
Share on Google Plus

About WARAJ

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment