কথাগুলো কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন ধর্ষণের শিকার তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রী গুলবাহার (ছন্দনাম)।
গুলবাহার আরো বলেন, তাকে (গোলাম মোস্তফা) নানু বলে ডাকতাম। সরল বিশ্বাসে তার ঘরে গিয়েছিলাম। সে আমার সঙ্গে এমন করবে ভাবতে পারিনি। আমি তার মৃত্যুদন্ড চাই। গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের সকালে গজীপুরের জয়দেবপুরে বার্তাপাড়া এলাকায় এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ধর্ষিতা মেয়েটি জয়দেবপুরের আবাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী।
ধর্ষিতার পরিবার, পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মেয়েটির বাবা-মা দুজনেই জয়দেবপুরের একটি গার্মেন্টে কাজ করেন। ঘটনার দুদিন আগে মেয়েটির বাবা তার গ্রামের বাড়ি রংপুর মহানগরীর ৩২ নং ওয়ার্ডের তামপাট নগরমীরগঞ্জে চলে আসেন। আগের রাতে মায়ের নাইট ডিউটি ছিল। সারা রাত কাজ করার পর মা সকালে এসে ঘুমিয়ে পড়েন। বাড়িতে মেয়েটির ৭ বছরের একটি ছোট ভাই ছিল। এই সুযোগে লম্পট ধর্ষক ৪ সন্তানের জনক গোলাম মোস্তফা মেয়েটিকে তার ঘর ঝাড়– দেওয়ার কথা বলে ডেকে নেয়। এর পর ঘরের দরজা বন্ধ করে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে।
বোনকে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি ছোট ভাই দেখে ফেলে। ভাইটি ঘরের জানালায় উঁকি দিয়ে বিষয়টি দেখে ফেলে। ধর্ষক গোলাম মোস্তফা বিষয়টি টের পেয়ে মেয়ের ভাইকেও ধরে এনে বাথরুমে তালাবদ্ধ করে রাখে। সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে মেয়েটির ওপর পাশবিক নির্যাতন। লালসা চরিতার্থ হলে মেয়েটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে ছোট ভাইটিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় ভাইবোন দুজনকে হুমকি দেওয়া হয়। এ কথা কাউকে বললে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়।
এঘটনার পর প্রথমে মেয়েটি ভয়ে কাউকে কিছু বলেনি। সন্ধ্যার পর ছোটভাই বিষয়টি তার মা ও খালাকে বলে দেয়। মেয়েটির মা ও খালা বিষয়টি প্রথমে বাড়ির মালিক দেলোয়ার হোসেন দিলুকে জানায়। পরে ধর্ষকের কাছে গেলে ধর্ষক ও বাড়িওয়ালার লোকজন বিষয়টি কাউকে যাতে না জানানো হয় এ বলে ভয়ভীতি দেখায়।
অব্যাহত ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকিতে মেয়েটির মা একদিন পর রোববার সকালে বাধ্য হয়ে মেয়েটিকে জয়দেবপুর থেকে রংপুরে নিয়ে আসে। পরের দিন সোমবার মেয়েটিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করায়।
বর্তমানে মেয়েটি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে। ধর্ষক গোলাম মোস্তফার গ্রামের বাড়িও রংপুর নগরীর আরাজী তামপাট এলাকায়। তার পিতার নাম মৃত মহিউদ্দিন। গোলাম মোস্তফাও গার্মেন্টে কাজ করত। একই এলাকার বাসিন্দা হওয়াতে আগে থেকেই ধর্ষিতার পরিবারের সঙ্গে ধর্ষকের পরিচয় ছিল।
রমেক হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. অজয় কুমার জানান, বিষয়টি অত্যন্ত জঘন্য ও পৈশাচিক। মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা হয়েছে। এখন বয়স নির্ধারণ পরীক্ষা বাকি রয়েছে। এটিও দু-একদিনের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। মেয়েটি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে।
হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের পুলিশ ইউনিটের প্রধান এসআই মসিউর রহমান জানান, মেয়েটি ভর্তি হওয়ার পরপরই আমরা জয়দেবপুর থানায় বেতার বার্তা পাঠিয়েছি। এরপর ফ্যাক্স মারফত আসামি ধরার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফ্যাক্স পাঠিয়েছি। গত ২২ ডিসেম্বর মেয়ে মা বাদী হয়ে একটি ধর্ষণের এজাহার করেছে সেটিও ফ্যাক্সযোগে এবং হাতে হাতে মেয়ের বাবাকে দিয়ে জয়দেবপুর থানায় পাঠানো হয়েছে।
জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার রেজাউল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত এজাহারের কপি আমি পাইনি। এজাহারের কপি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
মেয়েটির বাবা জানান, একজন চৌকিদারসহ আমি গত শুক্রবার জয়দেবপুর থানায় এজাহারের কপি পৌঁছে দিয়েছি।
0 comments:
Post a Comment