বিশ্বায়নের কাল নতুন বিশ্ব(অ)ব্যবস্থার অপেক্ষায়




যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আসন্ন বলেই ধরে নেওয়া যায়ভোটের আগে যুক্তরাষ্ট্রের হবু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেসব কথা বলেছিলেন, দায়িত্বভার গ্রহণের আগেই তিনি সেগুলোর কয়েকটি ভুলে গেছেন। এমনকি কয়েকটি ক্ষেত্রে পুরোপুরি উল্টো কথাই বলছেন। যেমন তিনি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারিকে জেলে পাঠাবেন বললেও এখন বলছেন যে হিলারির বিরুদ্ধে ই-মেইল ফাঁসের অভিযোগ ইতিমধ্যে তদন্ত হয়েছে এবং সে কারণে নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন নেই। ট্রাম্প তাঁর প্রথম ১০০ দিনের যে কর্মসূচি প্রকাশ করেছেন, তাতে মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল তোলার কথা যেমন নেই, তেমনি নেই অবৈধ অভিবাসী বিতাড়নের বিষয়। ট্রাম্প মহোদয় এগুলো আন্তরিকভাবেই বাদ দিয়েছেন, নাকি তা রাজনৈতিক সুবিধাবাদিতার কৌশল, সেটি স্পষ্ট হওয়ার জন্য আমাদের অপেক্ষায় থাকতে হবে। তবে অনেকে এটুকুতেই আশার আলো দেখছেন। পদ নাকি মানুষকে দায়িত্বশীল করে তোলে। তাই নির্বাচনের আগে তিনি যেসব লাগামছাড়া কথাবার্তা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হওয়ার পর তিনি তেমন দায়িত্বহীন থাকবেন না বলেই তাঁদের আশা।
আশাবাদী হওয়া ভালো। কিন্তু অবাস্তব আশাবাদ বিপদ ডেকে আনে। তাই যেসব দেশ বিদ্যমান বিশ্বব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ও ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছে, তারা সবাই অননুমেয় (আনপ্রেডিক্টেবল) ট্রাম্পযুগের নানা ধরনের ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প আবার আমেরিকার শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছেন। পুঁজিবাদী ব্যবস্থা ও বিশ্বায়নের সুবিধাই আমেরিকাকে কথিত ‘শ্রেষ্ঠত্ব’ এনে দিয়েছিল। কিন্তু সেই পুঁজিবাদী ব্যবস্থা যখন সংকটে, তখন তিনি বিশ্বায়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। আমেরিকার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়ার সঙ্গে মিলেমিশে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএসকে পরাস্ত করতে চান। তিনি ইসরায়েলের রাজধানী জেরুজালেমে স্থানান্তরে সহায়তার যে অঙ্গীকার করেছেন, তা ফিলিস্তিনিদের জন্য নতুন উসকানিতে পরিণত হতে বাধ্য। সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্যদেশগুলো নিরাপত্তায় পাশে দাঁড়ানোর গ্যারান্টি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো বিপন্ন বোধ করতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র আর অন্য দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দায় দেবে না এমন ঘোষণায় তুরস্কের এরদোয়ান কিংবা মিসরের সিসির মতো কর্তৃত্ববাদী শাসকেরা উৎফুল্ল হলেও তা ওই সব দেশের নিপীড়িত ও অধিকারবঞ্চিত মানুষের জন্য বড় দুঃসংবাদ।

বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় যেসব দেশকে আমরা দেখে অভ্যস্ত, তারাও এখন অস্বস্তিতে। ব্রিটেন বহুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার বিশেষ সম্পর্ক নিয়ে বড়াই করে অভ্যস্ত। ইরাকে যুদ্ধের সময় বাকি ইউরোপ ভিন্ন পথে হাঁটলেও বুশ-ব্লেয়ারের বন্ধুত্বের রসায়ন অন্য রাজনীতিকদের মধ্যে রীতিমতো ঈর্ষা জাগিয়েছে। সেই ব্রিটেন এখন বিব্রত। সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া দেশটির কাকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করা উচিত, তা বলে দিচ্ছেন ট্রাম্প। এ ক্ষেত্রে তাঁর পছন্দ তাঁর মতো চরম ডানপন্থী রাজনীতিক নাইজেল ফারাজ। এর প্রতিক্রিয়ায় ২২ নভেম্বর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন শেষ পর্যন্ত হাউস অব কমন্সে বলেছেন যে ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতের পদ খালি নেই। একজন এমপি পাল্টা মন্তব্য করেছেন যে ব্রিটেনে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে খুব ভালো করতেন হিলারি ক্লিনটন, কিন্তু তিনি সম্ভবত ট্রাম্প প্রশাসনের হয়ে কাজ করতে রাজি হবেন না।
বিশ্ব রাজনীতিতে ট্রাম্পযুগের প্রস্তুতির কথা বলছিলাম। ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সের গবেষকেরা বিভিন্ন সময়ে এমপিদের জন্য বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধ প্রকাশ করে থাকেন, যেগুলো রিসার্চ ব্রিফিং নামে পরিচিত। ১৫ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এ রকম একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে, যার শিরোনাম ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প অন ফরেন অ্যান্ড ডিফেন্স পলিসি’। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে ট্রাম্পের বিজয়ের প্রভাব অনুমান করা দুষ্কর—এমন মন্তব্য দিয়ে শুরু ওই নিবন্ধে বলা হয়েছে যে ডোনাল্ড ট্রাম্প পরস্পরবিরোধী কথা বলেছেন। ভিন্ন ভিন্ন শ্রোতার উদ্দেশে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য। মনোনয়ন পাওয়ার আগের তুলনায় পরে তাঁর বক্তব্যে কিছুটা নমনীয়তা এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে যে মৌলিক পরিবর্তন আসন্ন, তা ধরে নেওয়াটাই যুক্তিসংগত বলে মনে হয়।
গবেষণাপত্রের ভাষায়, ট্রাম্প বলে আসছেন যে তিনি পুতিনের নেতৃত্বের গুণাবলির তারিফ করেন এবং রুশ-মার্কিন সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা বোধ করেন। ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত পরমাণু সহযোগিতা চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও কংগ্রেসের সামনে বিরোধিতার মুখে পড়বে। যদিও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে চুক্তিটি সমর্থিত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে তা বাতিল করা সহজ হবে না। ট্রাম্প বিভিন্ন দেশে শাসক বদলানো এবং রাষ্ট্র গঠনের নীতির ইতি ঘটানোর কথা বলেছেন। সুন্নিপ্রধান দেশগুলো তাঁর ইরানবিরোধী অবস্থানকে স্বাগত জানালেও তাঁর মুসলিমবিদ্বেষী প্রচারণার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিরাপত্তাগত সাহায্য পাওয়ার বিষয়ে সন্দিহান থাকবে।
ইসরায়েলের প্রতি তাঁর সমর্থনের প্রশ্নে ইসরায়েলি শিক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেনেটের একটি বক্তব্য এতে উদ্ধৃত করা হয়েছে। নির্বাচনের
ফল ঘোষণার পরদিনই তিনি লিখেছেন, ট্রাম্পের বিজয় ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা থেকে সরে আসার একটি সুযোগ। একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের যুগের ইতি ঘটেছে।
প্রতিরক্ষা বিষয়ে ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের সারাংশ তুলে ধরে বলা হয়, তিনি বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সুস্পষ্ট প্রাধান্য প্রতিষ্ঠায় যতটা প্রয়োজন হবে, তিনি ততটাই খরচ করবেন। কিন্তু আবার অন্যান্য দেশের প্রতি তিনি অভিযোগ করেছেন যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ওপর নির্ভর করে করে তাঁর দেশকে ফতুর করে দিচ্ছে। তিনি ন্যাটোকে সেকেলে অভিহিত করে জোটটির কোনো সদস্যরাষ্ট্র আক্রান্ত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ন্যাটোর সাড়া দেওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। যুক্তরাষ্ট্র যে বৈশ্বিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করে আসছে, ন্যাটো জোটের প্রতি দায়িত্ব কিছুটা লাঘব করার মাধ্যমে তার অবসান ঘটালে সেটিই হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণু অস্ত্রসম্ভারের আধুনিকায়নের কথা বলেছেন। পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধের কথাও বলেছেন। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার হুমকির বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার জন্য জাপানের পরমাণু অস্ত্রের সম্ভার থাকা উচিত বলেও মত দিয়েছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণায় বারবার চীনের কথা এসেছে। চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের চাকরি চুরি করে নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিকে চীনের ষড়যন্ত্রমূলক প্রচার বলে নাকচ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। মুদ্রাবাজারে চীন বেআইনিভাবে মূল্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে এমন অভিযোগও বাদ যায়নি। নির্বাচিত হওয়ার পর দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই তিনি চীনা পণ্যের ওপর ৪৫ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপের কথা বলেছেন। নির্বাচনকালীন প্রচারণায় চীনের প্রতি নানা ধরনের দোষারোপের নীতিতে চীনা নেতারা অনেকটাই বিরক্ত এবং বিশেষজ্ঞরা একটি বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন। ট্রাম্প যদি একলা চলার নীতিকেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো বলে অনুসরণ করতে চান, তাহলে তার উল্টো বার্তাটাই চীন তাঁকে দিয়েছে। চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে যে নির্বাচিত হওয়ার পর ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট সি িচন পিং তাঁর প্রথম টেলিফোনে বলেছেন, ‘বাস্তবে দেখা যাচ্ছে যে সহযোগিতাই হচ্ছে সঠিক পথ।’ চীনের জাতীয়তাবাদী পত্রিকা গ্লোবাল টাইমস এক সম্পাদকীয় প্রকাশ করে বলেছে যে উঁচু হারে শুল্ক আরোপ করা হলে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চীনের জন্য সমস্যা তৈরি করায় তাঁর কোনো রাজনৈতিক ফায়দা হবে না বলেও ওই সম্পাদকীয়তে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
ট্রাম্পের সম্ভাব্য পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ভারতও কম উদ্বিগ্ন নয়। তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার সময় হিন্দু জাতীয়তাবাদীদের একটি অংশ তাঁকে বেশ জোরেশোরেই সমর্থন জানিয়ে এসেছে। তাঁর সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় ট্রাম্প বলেন, তিনি হিন্দুদের ভালোবাসেন। নিজেকে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর একজন গুণমুগ্ধ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। আবাসন খাতে বিনিয়োগের কারণে ভারতের সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। নির্বাচিত হওয়ার পরও তাঁর ভারতীয় ব্যবসার অংশীদারেরা তাঁর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাওয়ায় নিউইয়র্ক টাইমস তাঁর সম্ভাব্য স্বার্থের দ্বন্দ্ব বা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্টের কথা বলেছে। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব এস জয়শংকর ওয়াশিংটন ঘুরে এসে গত সোমবার দিল্লিতে এক সেমিনারে বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের পরিবর্তিত অগ্রাধিকারের সঙ্গে বিশ্বকে তাল মেলাতে হবে এবং পাশ্চাত্য জোটে এর একটা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। অধিকাংশ বৈশ্বিক ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে যে ধরনের মতের মিল দেখা যেত, ট্রাম্পের কট্টর ও একলা চলার নীতির কারণে তাতে সংঘাত দেখা দেবে। এশিয়ায় তাদের উপস্থিতির প্রশ্নেও এ রকম তীব্র মতভেদ দেখা যাবে। তাঁর মতে, বৃহৎ শক্তিগুলোর মধ্যকার এসব দ্বন্দ্বের প্রভাবে আঞ্চলিক পরিসরে অনিশ্চয়তা বাড়বে।
হিলারি ক্লিনটনের নির্বাচনী ব্যর্থতায় আমাদের দেশে অনেকের মধ্যেই কিছুটা স্বস্তির ভাব লক্ষ করা যায়। হিলারি বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে বাধা তৈরি করেছিলেন এমন অভিযোগই তার কারণ। ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, যার বাংলা হচ্ছে, ‘চেনা শয়তান অচেনা ফেরেশতার চেয়ে ভালো’ (এ নোন ডেভিল ইজ বেটার দেন অ্যান আননোন অ্যাঞ্জেল)। বিশ্ব এখন এক অচেনা হবু প্রেসিডেন্টের অপেক্ষায়। কিন্তু তাঁর বিজয়ে ওয়াশিংটনে শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীরা উল্লাস করছে। নানা শহরে বর্ণবাদীদের হাতে মুসলমানদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। বাংলাদেশের বহু পরিবারই তাদের সন্তান কিংবা স্বজনদের জন্য সারাক্ষণই উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে, কেউ কেউ ছেলেমেয়েদের ফিরে আসার কথাও বলছে। ব্যক্তিজীবনে এসব উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার আশু কোনো সুরাহা হবে, তেমন সম্ভাবনা ক্ষীণ। তবে রাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের বিষয়গুলো কী, তা নিয়ে এখনো তেমন কোনো আলোচনা শোনা যাচ্ছে না। আমাদের রাজনীতিবিদদের দু-একজন ট্রাম্পের নির্বাচনকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বিজয় বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। আবার কারও কারও আশা বাংলাদেশ এবার জিএসপি ফিরে পাবে। ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) বাতিলের অঙ্গীকারে এঁরা কিছুটা উচ্ছ্বসিত। কিন্তু ট্রাম্পযুগে যে নতুন বিশ্ব(অ)ব্যবস্থা {নিউ ওয়ার্ল্ড (ডিজ)অর্ডার} তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, তা কীভাবে নাকচ করা যাবে? ব্রিটিশ হাউস অব কমন্সের ওই গবেষণাপত্রের উপসংহারে বলা হয়েছে, ভারসাম্য রক্ষায় (চেক অ্যান্ড ব্যালান্স) যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া ব্যবস্থার সুনাম আছে এবং দেশটির পররাষ্ট্রনীতিতে তার হয়তো কিছুটা প্রভাব থাকবে। কিন্তু পররাষ্ট্র ও অভ্যন্তরীণ নীতিমালা গ্রহণে প্রেসিডেন্ট অপেক্ষাকৃত অনেক বেশি স্বাধীন। রিপাবলিকান পার্টি এখন কংগ্রেসের উভয় কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণে। সুতরাং, এখন দেখার বিষয়, রিপাবলিকান পার্টিকে ট্রাম্প কতটা তাঁর সঙ্গে রাখতে পারেন।
অক্সফোর্ড অভিধানে ২০১৬ সালের ওয়ার্ড অব দ্য ইয়ার হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ‘পোস্ট-ট্রুথ’ বিশেষণটি। ৮ নভেম্বর অক্সফোর্ড অভিধানের সম্পাদকমণ্ডলী বলেছেন, যে পরিস্থিতিতে জনমত তৈরিতে বস্তুনিষ্ঠ সত্যের চেয়ে আবেগ বেশি ভূমিকা রাখে, সেটিই হচ্ছে পোস্ট-ট্রুথ। চলতি বছরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ব্রেক্সিট এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার পটভূমিতেই এই বিশেষণ বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। উত্তর-সত্য বা পোস্ট-ট্রুথ প্রচারণায় নির্বাচিত যুক্তরাষ্ট্রের হবু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাস্তবে কী করেন—সেটাই এখন প্রধান দুর্ভাবনা।
কামাল আহমেদ: সাংবাদিক।


Share on Google Plus

About WARAJ

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment