‘ডাবল চিন’ সমস্যার সহজ সমাধান

ডাবল চিন(চিবুক) সাধারণত আমাদের শারীরিক স্থুলতা ও অতিরিক্ত চর্বির কারণে হয়ে থাকে। আমাদের থুতনির নিচে গলার কাছে চর্বি জমে এই ডাবল চিন তৈরি হয়। ডাবল চিন নিয়ে অনেকেই অস্বস্তিতে থাকি। সঠিক ডায়েট ও ব্যায়াম না করার ফলে বা জেনেটিক কারণে আমাদের ডাবল চিন হয়। আর এটি হলে আমাদের চেহারার শার্পনেস কমে যায়।

এই ডাবল চিন থেকে মুক্তি পেতে রয়েছে কিছু সাধারণ টিপস-

যা খাবেন

চিনি ছাড়া চুইংগাম
ডবল চিবুক কমিয়ে সিঙ্গেলে আনতে চিনি ছাড়া চুইংগাম চিবান। এতে চোয়ালের জন্য ভালো ব্যায়াম হয়। এর আরেকটি দিক হচ্ছে চিনি না থাকায় দাঁতের কোনো ক্ষতি হবে না।

গ্রিন টি
নিয়মিত গ্রিন টি পান করুন, এতে রয়েছে এন্টিঅক্সিডেন্ট। যার ফলে আমাদের শরীরের অতিরিক্ত চর্বি বার্ন করতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে মুক্তি পাবেন ডাবল চিন থেকেও।

ভিটামিন ই
‘ডাবল চিন’ সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে ভিটামিন ই বেশ কার্যকার। ভিটামিন ই ত্বক টানটান করার পাশাপাশি সার্বিকভাবে ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে।

তাই প্রতিদিন খাবারের তালিকায় বেশি পরিমাণে ভিটামিন ই-যুক্ত খাবার রাখতে হবে। সাধারণত সবুজ শাকসবজি, দুগ্ধজাত খাবার, লাল চাল, বার্লি, বাদাম, আপেল, সয়াবিন, চীনাবাদাম ইত্যাদি খাবারে ভিটামিন ই আছে। এছাড়া ডাক্তারের পরামর্শে ভিটামিন ই ক্যাপসুলও খাওয়া যেতে পারে।

পানি
পানি কম পান করলে মুখের মেদ বাড়ে। সেখান থেকে ‘ডাবল চিন’ হয়। তাই দিনে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত।

যা মাখবেন

কোকো বাটার
কোকো বাটার দিয়ে গলা ও চিবুক ঘষলে ‘ডাবল চিন’ সমস্যা দূর হয়। এক্ষেত্রে কোকো বাটারের তেল গরম করে চিবুকের নিচের অংশে লাগাতে হবে। প্রতিরাতে শোয়ার আগে কয়েক মিনিট মালিশ করে ঘুমান। পরদিন গোসল করার আগে একই পদ্ধতি অনুসরণ করুন, উপকার পাওয়া যাবে। ত্বক নমনীয় রাখতে কোকো বাটার বেশ কার্যকার।

গ্লিসারিন
‘ডাবল চিন’ দূর করতে গ্লিসারিনের তৈরি মাস্ক ব্যবহারে ভালো ফল পাওয়া যাবে। মাস্কটি তৈরি করতে ১ টেবিল-চামচ গ্লিসারিনের সঙ্গে আদা চা-চামচ এপসাম সল্ট এবং কয়েক ফোঁটা পেপারমিন্ট অয়েল মিশিয়ে নিতে হবে।

মিশ্রণটি তুলায় ভিজিয়ে সরাসরি গলা ও চিবুকে লাগিয়ে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। উপকার পেতে মিশ্রণটি সপ্তাহে তিন থেকে পাঁচবার ব্যবহার করতে হবে।

তরমুজ
এতে থাকা বিভিন্ন উপাদান ত্বকের রং স্বাভাবিক করতে এবং চামড়া ঝুলে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। ফলে চোয়ালের নিচে চর্বি জমতে পারে না। ডাবল চিন সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে প্রতিদিন তরমুজের রস (পানি ছাড়া) আক্রান্ত স্থানে লাগিয়ে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলতে হবে।

আপেল
আপেলের রসও (পানি ছাড়া) চিবুকের নিচের অংশে ভালোভাবে মালিশ করলে উপকার পাওয়া যায়। যদি সমপরিমাণ তরমুজ ও আপেলের রস একসঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা হয় তবে আরও ভালো কাজ করে।

দুধ
ত্বক টানটান করতে দুধ বেশ কার্যকর। এক্ষেত্রে দুধ দিয়ে কিছুক্ষণ মালিশ করে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

তাছাড়া দুধ ও মধু একসঙ্গে মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করেও ব্যবহার করা যায়। সমপরিমাণ দুধ ও মধু মিশিয়ে মিশ্রণটি চিবুকে লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। কিছুটা শুকিয়ে আসলে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ও গলা ধুয়ে নিতে হবে।

ডিম
ত্বক ভালো রাখতে এবং ‘ডাবল চিন’ সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে ডিমের সাদা অংশ উপকারী। এক্ষেত্রে ডিমের সাদা অংশ দিয়ে ঘরোয়া মাস্ক তৈরি করে নেওয়া যেতে পারে।

মাস্কটি তৈরি করতে লাগবে ২টি ডিমের সাদা অংশ, ১ টেবিল-চামচ দুধ, ১ টেবিল-চামচ মধু, অল্প পরিমাণ পেপারমিন্ট অয়েল এবং ১ টেবিল-চামচ লেবুর রস। সবগুলো উপকরণ একটি বাটিতে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এরপর মিশ্রণটি চিবুকে, আশপাশের ত্বক ও গলায় লাগিয়ে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তারপর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। দিনে একবার মাস্কটি ব্যবহারে উপকার পাওয়া যাবে।

ব্যায়াম:
- মাথা পেছনের দিকে হেলাতে থাকুন, যতক্ষণ না পর্যন্ত আপনি আপনার ঘাড়ে চাপ অনুভব না করছেন। এবার মাথা ডান থেকে বাম দিকে, আরেকবার বাম থেকে ডান দিকে ঘোরান। একেক পাশে ৫ বার করে এই ব্যায়াম দিনে ৫ বার করুন।

- সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে মাখা ঘাড়ের দিকে নিয়ে ছাদ বা আকাশের দিকে তাকান। ঠোঁট দিয়ে আকাশের দিকে চুমু দিন। এভাবে কিছুক্ষণ থাকুন। প্রতিদিন অন্তত ১০ বার এটা করুন। দ্রুত উপকার পাবেন।

- মেরুদণ্ড সোজা রেখে কাঁধ থেকে মাথা ধীরে ধীরে বৃত্তাকারে ঘুরাতে থাকুন। দিনে ৫ বার প্রতিবারে ১০ বার করে

এছাড়া ঘুমানোর জন্য পাতলা বালিশ নিতে হবে। উঁচু বালিশে মাথা রেখে ঘুমানো উচিত নয়। উঁচু বালিশে শোবার কারণে ত্বকে টান পড়ে। ফলে ত্বক ঝুলে যায় আর ‘ডাবল চিন’ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তাই ঘুমানোর জন্য নরম ও পাতলা বালিশ বেছে নিতে হবে।
Share on Google Plus

About WARAJ

    Blogger Comment
    Facebook Comment

0 comments:

Post a Comment